শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ট্রুডোর বিদায় : রাজনৈতিক সংকটের আভাস

আহমদ মতিউর রহমান
কানাডার রাজনীতিতে একটি ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করেছেন। নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে দেশটি। কিছুদিন ধরেই সংকটের কথা শোনা যাচ্ছিল, শেষে তা বাস্তবে রূপ নিল। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বড় রাজনৈতিক সংকটের দিকে যাচ্ছে কি না বিশ্লেষকেরা সেটা নিয়েই কথা বলছেন।
উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত এই দেশের দশটি প্রদেশ ও তিনটি অঞ্চল আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর এবং উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ‌এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। যদিও জনসংখ্যা সে তুলনায় কম। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। দেশটি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এবং জি৮ গ্রুপের সদস্য। অন্যান্য উন্নতদেশগুলোর মত কানাডার অর্থনীতির সিংহভাগ সেবামূলক শিল্প নিয়ে গঠিত। প্রায় তিন চতুর্থাংশ কানাডাবাসী কোন না কোন সেবা শিল্পের সাথে যুক্ত আছেন। বিশ্বের যে কোন ঘটনায় দেশটির কোন না কোন যোগ আছে। তবে আমেরিকার মতো তার নীতি অতোটা আগ্রাসী নয়। আর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির অবদান ব্যাপক। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী কানাডায় অভিবাসী হয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যাও কম নয়। বাংলাদেশের সাথে কানাডার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ, যার গভীরতা গত ৫০ বছরে আরো বেড়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালাভের সময় রাজনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। বছরে কানাডা ১০০ মিলিয়ন ডলারের মতো উন্নয়ন সহায়তা বাংলাদেশকে দিয়ে থাকে। স্বাধীন হওয়ার পর যে কয়টি দেশ প্রথম দিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, তার মধ্যে কানাডা অন্যতম। কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য লাভের ব্যাপারে জাস্টিন ট্রুডোর পিতা দেশটির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো দৃঢ় সমর্থন দেন। সুতরাং দেশটির রাজনৈতিক সংকট বা পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের একটি নিকটতম যোগ থাকাই স্বাভাবিক।
ট্রুডো কেন হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন? কে হতে যাচ্ছেন তার উত্তরসূরি? এদুটি প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে আসছে। ২০১৫ সাল থেকে টানা নয় বছর কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন জাস্টিন ট্রুডো। বিবিসি বলছে, পদত্যাগের জন্য গত কয়েক সপ্তাহ চাপে থাকার পর শেষমেশ প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রুডো। তিনি লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। ২০১৩ সালে এমন এক সময় তিনি লিবারেল পার্টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন দলটি গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত ছিল। সে সময় কানাডার হাউস অব কমন্সে তৃতীয় অবস্থানে নেমে গিয়েছিল তার দল লিবারেল পার্টি। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলে ২০১৫ সালে ক্ষমতায় বসেন মি. ট্রুডো। এরপর থেকে টানা গত নয় বছর ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন লিবারেল পার্টির এই নেতা।
তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা মি. ট্রুডো হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন কেন? বিশ্লেষকরা সরলভাবে একটা উত্তর দিয়েছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা মি. ট্রুডো ক্রমেই ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছিলেন। ফলে চাপে ছিলেন ট্রুডো। এ বছর কানাডায় সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২০শে অক্টোবরের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার আগেই দলের নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হলেন জাস্টিন ট্রুডো। এখানে বাধ্য কথাটার দিকে খেয়াল করতে হবে। জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা মি. ট্রুডো ক্রমেই ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছেন। তিনি লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে থাকলে দলটি আগামী নির্বাচনে হেরে যেতে পারে। ফলে বিরোধীদের পাশাপাশি নিজ দলের ভেতর থেকেও বেশ চাপে ছিলেন মি. ট্রুডো। আর লিবারেল পার্টি প্রধানমন্ত্রীকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। টরোন্টোর একটি উপনির্বাচনে কনজারভেটিভদের কাছে ব্যাপক ভোটে পরাজিতও হয় লিবারেলরা। গত মাসের জনমত সমীক্ষার দেখা যায়, কানাডার নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ মি. ট্রুডোর নেতৃত্বে ভরসা রাখেন। গত নয় বছরে জনসমর্থন এত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যায়নি।
বিবিসি আরো বলছে, “কানাডায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন একটা সময় দেখা দিলো যখন দেশটি অর্থনৈতিক কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে, যার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নিতে চলেছেন আগামী ২০শে জানুয়ারি। এর আগেই “মি. ট্রাম্প বলেই দিয়েছেন যে কানাডা যদি অনুপ্রবেশকারীদের এবং বেআইনি মাদক আমেরিকায় প্রবেশের ওপরে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে তাহলে কানাডা থেকে আসা পণ্যের ওপরে তিনি ২৫% কর আরোপ করবেন। আর বিশ্লেষকরা বলছেন এই পরিমাণ কর কানাডার অর্থনীতিকে শেষ করে দিতে পারে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। মূলত এ ঘটনার পর থেকেই মি. ট্রুডোর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে। আগামী ২৪শে মার্চ পর্যন্ত পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লিবারেল পার্টি নতুন নেতা নির্বাচন করার কথা রয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক সংকটের সময় পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত থাকা অবস্থায় আগামী ২৪শে মার্চের মধ্যে কানাডার লিবারেল পার্টিকে তাদের নতুন নেতা বেছে নিতে হবে। কিন্তু কোন কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে দলটি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। সাধারণত চার-পাঁচ মাসের একটি লম্বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলগুলো নতুন নেতা নির্বাচন করে থাকে। এর প্রক্রিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি সম্মেলনও অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এবার নেতা নির্বাচন করার জন্য লিবারেলরা বেশি সময় পাবেন না। তবে দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সেটি আভাস দিয়েছেন মি. ট্রুডো। লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে খুব শিগগিরই দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। মি. ট্রুডোর উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ট্রুডোর সরকারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, পরিবহনমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক কারনির নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে। অনিতা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে কানাডার ইতিহাসে তিনিই হবেন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
ভারতের সঙ্গে কানাডার সংকট যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। যদিও এই সংকটের সাথে তার পদত্যাগের কোন সম্পর্ক দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুটি দেশের বিরোধ। পরে সম্পর্ক ঠেকে তলানীতে। দিল্লীর চোখে সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত হরদীপ সিং নিজ্জরের দল ‘শিখস ফর জাস্টিস’ ভারতে নিষিদ্ধ। গত বছর পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো জানিয়েছিলেন, নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত বলে তাদের সরকারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য খবর আছে। ভারতকে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছিলেন তিনি।
শুরু থেকেই ভারত নিজ্জর হত্যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্তরে কোনো রকম সংস্রব থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ট্রুডোকে তার অভিযোগের সমর্থনে বারবার প্রমাণ দিতেও বলেছে; কিন্তু কোনো প্রমাণই কানাডা সরকার দিতে পারেনি বলে ভারতের দাবি। এই পরিস্থিতিতে গত বছর কানাডা পুলিশ কয়েকজন ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তার করে। তা নিয়ে ভারত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কয়েক মাস পর কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ভারত ও পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। সেই অভিযোগও ভারত অস্বীকার করেছে। এ থেকে অনেকদূর গড়ায়, হয় সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি।
অন্যদিকে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, এটা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ক্ষুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রুডো লিখেছেন, ‘কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশে পরিণত করার সুযোগই নেই। আমাদের দুই দেশের শ্রমিক ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা একে অপরের বড় বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে লাভবান হচ্ছেন।’ গত সোমবার ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লিখেছেন, প্রতিবেশী দেশ কানাডার অনেক বাসিন্দা চান, তাদের দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করা হোক। কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে দেশটিকে কোনো বাণিজ্য শুল্ক দিতে হবে না, করের পরিমাণও কমবে। এরপর মার-এ-লাগোয় ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অর্থনৈতিক বল’ প্রয়োগ করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন কানাডায় আসতে পারে অভিবাসীবিরোধী সরকার। ফলে এতদিনকার পথ বদলে যেতে পারে দেশটির। কিন্তু এই নতুন প্রধানমন্ত্রী খুব বেশি দিন থাকতে পারবেন না। কারণ, পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরুর পরই লিবারেল পার্টির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এতে হেরে যেতে পারে দলটি। ফলে কানাডায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি একাধিকবার আস্থা ভোটের মাধ্যমে ট্রুডো সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। দেশটির পার্লামেন্টে আসন ৩৩৮টি। আস্থা ভোটে টিকে থাকার যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, সেটি থেকে ১৭টি আসন কম আছে লিবারেলদের। এতদিন ট্রুডো ও লিবারেলদের বাঁচিয়ে দিয়েছে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। তারা প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়েছে দলটিকে। এনডিপির নেতা জগমত সিং বলেছেন, তারা দলটিকে নতুন করে ‘আর একবারও সুযোগ’ দেবেন না। অর্থাৎ, কানাডায় আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর আগাম নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসতে পারে কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হবেন পিয়ার পলিয়ার। তিনি অভিবাসীবিরোধী হিসেবে পরিচিত। এই হচ্ছে বিশ্লেষকদের সরল হিসেব। কিন্তু রাজনীতি সব সময় সরল পথে চলে না। ফলে হিসেব পাল্টেও যেতে পারে।
কানাডায় এমন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হলো, যখন কি না দেশটি বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নিলে কানাডার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করবেন। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে কানাডা। অঙ্গরাজ্য করার ঘোষণা হয়তো রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর, কিন্তু শুল্কের বিষয়টি হয়তো ভোগাবে দেশটিকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ